![]() |
| ড্যান্ডির করাল থাবা |
লিখেছেন: মো: সদর আলী মোল্লা
হাবি: অবঃ বিজিবি
মোবাইল: ০১৭২০-৩৪২৩০৮
করোনা ভাইরাসের জন্য সারা বিশ্বে লকডাউন চলছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, মানুষের চলাচল সীমিত। প্রাইভেটকার মাইক্রোবাস চলছে খুব বেশি, গণপরিবহন চলছে না। করোনা নিয়ে সবাই চিন্তিত। ডাক্তার নার্স সহ বড় বড় জ্ঞানী গুনী ব্যক্তিরা কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ এক সময় এই অবস্থার অবসান ঘটবে।
আমি Dandy প্রসঙ্গে একটু কথা বলতে চাই। সোনালী ব্যাংক মিরপুর-১ থেকে পেনশনের টাকা পকেটে নিয়ে বের হয়েছি, রাস্তা পার হবো। সোনালী ব্যাংক দারুসসালাম রোডের পূর্ব পার্শ্বে। আমি পশ্চিম পার্শ্বে আসবো।
| ড্যান্ডি সেবনকারী বাচ্চারা |
রাস্তায় ডিভাইডার দেয়া আছে। অনেকদূর হেটে যেতে হবে, না হয় ওভারব্রিজ। আমি একটু বেখেয়ালী ভাবে ব্রিজে উঠছি। ১০/১২ ধাপ সিঁড়ি ওঠার পর দেখি আমার ডান পার্শ্বে ৩ জন ড্যান্ডির কৌটা এবং পলি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। আমি চমকে উঠলাম, দেখলাম ৬/৭ ধাপ সিঁড়ি উপরে বাম পার্শ্বে আরো ২ জন। ভাবলাম এই মুহূর্তে পেছনের দিক যাওয়া যাবে না।
দাড়ি-টুপি পায়জামা-পাঞ্জাবি আমার হালত। মুহুর্তের মধ্যে একজন রাগী মানুষের মত হয়ে উপরে উঠে গেলাম। ওখানে ২ জন শুয়ে আছে, চারদিক ভালো ভাবে তাকিয়ে দেখলাম আক্রান্ত হলে সাহায্য করার মত কেউ আছে কিনা। দেখি উত্তর দিকে যাচ্ছে ২ জন পথচারী। কোন শব্দ শুনলে ওইদিকেই দৌড় দিবে আর নিচে ১ টা পুলিশের গাড়ি। আমি লম্বা কদমে পশ্চিমে গিয়ে নামলাম।
কুকুরে কামড়ালে মহাখালী গিয়ে ১৪ টা ইনজেকশন নিলে জলাতঙ্ক রোগ থেকে বাঁচা যায়। Dandy'র থেকে বাঁচার উপায় কি? এ তো দেখি করোনার চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
Dandy কি?
Dandy is one kind of drug. সকলেরই জানা বিষয় তারপরও বলছি। সাইকেল বা রিক্সার টিউব ছিদ্র হলে মেরামত করার জন্য এক প্রকার গাম বা আঠা ব্যবহার করা হয়, যাকে বলা হয় সলিউশন। সলিউশন পলিব্যাগে ভরে পলির মুখ নিজের নাক মুখের সাথে সংযোগ দিয়ে ভালো করে এঁটে দেয়। কিছুক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাস করলে নেশা নেশা মনে হয়।
![]() |
| কিশোর নেশাজীবী |
১৮-২০ বছর বয়সী তরুন তরুনীরা ড্যান্ডি সেবন করে থাকে। সুন্দর সুন্দর ছেলেমেয়েরা এই নেশা করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। মনে হয় বাসায় নিয়ে যাই, লালন-পালন করে বিয়ে শাদী দিয়ে দেই। কিন্তু কথা শুনলে নগদ বমি এসে যায়।
এদের দমন না করতে পারলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ যতই খারাপ হোক তার সন্তানকে খারাপ বানাতে চায় না।
মাওয়া শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চে উঠলে দেখা যায়, যুবতী বেদের মেয়েরা এসে যুবক ছেলেদের গায়ে হাত দিয়ে বলে, "দে না ভাই ১০টা টাকা"। সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য বলবো, "ভাই আপনার ছেলেটাও কিন্তু এখান দিয়ে যাতায়াত করে।"
হিজড়াদের ভিক্ষা পদ্ধতি ও বেহায়াপনা ছাড়িয়ে যায় ইদানীং, এ ব্যাপারে আরো সংযমী হওয়া উচিত।
৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই ছোট্ট দেশ চারদিকে ভারত বার্মা নির্যাতিত দের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিধায় জনসংখ্যা হুহু করে বাড়ছে কোনো ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। নিজের সন্তানের জন্য কেমন দেশ রেখে যাচ্ছি, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


0 Comments