![]() |
| E passport |
অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন জাগতে পারে ই পাসপোর্ট কি? ই পাসপোর্ট কোথা থেকে করবো? ই পাসপোর্ট কিভাবে করা যায়? ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে? ই পাসপোর্টে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন দরকার হয়? ই পাসপোর্ট করতে কতদিন সময় লাগে ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। তো বন্ধুরা আজ আমাদের লেখাটি এসকল প্রশ্নের সমাধান নিয়েই তৈরি। আশাকরি লেখাটি সম্পূর্ণ ভাবে পড়ার পর উপরে দেয়া প্রত্যেকটি প্রশ্নের সমাধান খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। তো বন্ধুরা চলুন শুরু করা যাক।
মূলত, যেকোন ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের যেকোন বাংলাদেশি নাগরিক চাইলে সকল শর্ত পূরণের নিমিত্তে ই পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। জেনে রাখুন ই পাসপোর্ট এর জগতে দক্ষিন এশিয়ার ১ম এবং পৃথিবীর ১২০ তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রবেশ করল। মালয়েশিয়া ১৯৯৬ সালে ১ম দেশ হিসাবে ই পাসপোর্ট এর যাত্রা শুরু করে।
ই- পাসপোর্ট কি
সহজ ভাষায় ই পাসপোর্ট হচ্ছে পূর্বতন পাসপোর্টে ইলেকট্রনিক সংস্করণ। ই পাসপোর্ট এবং মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের মধ্যে তফাৎ অনেকটা এটিএম কার্ড ও চেক বই এর মত। চেক ব্যাবহার করে যেমন গ্রাহক নিজে একা একা টাকা তুলতে পারে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সীল, সাক্ষর ইত্যাদি লাগে। কিন্তু এ টি এম কার্ড ব্যাবহার করে গ্রাহক এসব ঝামেলা ছাড়াই নিজের টাকা তুলতে পারেন। ই পাসপোর্টের সার্ভিস অনেকটা এটিএম কার্ডের মতই।
বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, ই পাসপোর্ট হল একটি পাসপোর্ট যাতে ইলেক্ট্রনিক মাইক্রো প্রোসেসর চিপ লাগানো থাকে। আপাত: দৃষ্টিতে পাসপোর্ট বইটি দেখে কোন কিছু বুঝা যায় না। দেখতেও অনেকটা MRP পাসপোর্টের মতই। কিন্তু ভিতরে সংযুক্ত চিপটি এম আর পি (মেশিন রিডেবোল পাসপোর্ট) আর ই পাসপোর্টের মধ্যেকার প্রধান পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। এই চিপের মধ্যে আছে বায়োমেট্রিক তথ্য যা পাসপোর্টধারীর যাবতীয় তথ্য বহন করে। এতে মাইক্রো প্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা সহ স্মার্ট কার্ডের প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।
বর্তমানে ই পাসপোর্টে যে সব বায়মেট্রিক সংরক্ষিত থাকবে তা হল পাসপোর্ট ধারীর ছবি, ১০ আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং চোখের আইরিশ। ই বর্ডার বা ইলেক্ট্রনিক বর্ডার কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক যাচাই করা হয়ে থাকে। পাব্লিক কিই ইনফ্রাস্ট্রাকচার (PKI) এর মাধ্যমে চিপে সংরক্ষিত ডাটা যাচাই করা হয়ে থাকে। এতে থাকবে পাসপোর্টধারীর ৩ ধরনের ছবি, ১০ আঙ্গুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি।
ই পাসপোর্টে কি সুবিধা?
ই পাসপোর্টের সবচাইতে বড় সুবিধা হল ই পাসপোর্টধারীরা বিশেষ ই-গেট ব্যাবহার করে খুব দ্রুত ও সহজে ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন। এজন্য তাদেরকে ভিসা চেকিং এর লাইনের দাড়াতে হবে না। এতে করে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, এই ই-গেট শুধুমাত্র ই পাসপোর্টধারীরাই ব্যাবহার করতে পারবেন।
ই-গেটের কাছে দাড়িয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রাখলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ছবি তুলে নেয়া হবে। এর পর আঙ্গুলের ছাপ পরিক্ষা করে নেয়া হবে সহজেই। কোন সমস্যা না থাকলে খুব দ্রুত শেষ হবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। আর কোন ঝামেলা থাকলে লাল বাতি জ্বলে উঠবে এবং পাসপোর্টধারীকে সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইমিগ্রেশন পার হতে দেয়া হবে না।
ই পাসপোর্টধারী দের জন্য বিশেষ ই-গেট, যা ইমিগ্রেশনের ঝামেলা অনেক কমিয়ে দিবে
এই সিস্টেমের পরিচালিত হবে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অরগানাইজেশন (আইসিএও) দ্বারা। একারণে সেন্ট্রাল ডেটাবেজ থেকে দেশের পুলিশ প্রশাসন, ইন্টারপোল ও বিভিন্ন বিমান বন্দর ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই এই সব তথ্য যাচাই করতে পারবে। এই পদ্ধতিতে ৩৮ লেয়ার বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যাবস্থা থাকায় কোন জাল বা সমস্যা যুক্ত পাসপোর্টধারী এই নিরাপত্তা ব্যুহ অতিক্রম করতে পারবে না। এতে করে সন্ত্রাসবাদ সহ অন্যান্য অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই কমে যাবে এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়।
ই পাসপোর্ট এর মেয়াদ, বিতরনের সময় এবং ফি সমূহ!
৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছরের জন্য সাধারণ ফি (১৫ দিন) ধার্য করা হয়েছে ৩৫০০ টাকা।
জরুরি ফি (৭ দিন) ধার্য করা হয়েছে ৫৫০০ টাকা।
অতিব জরুরি ফি (২ দিন) ধার্য করা হয়েছে ৭৫০০ টাকা।
৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট ১০ বছরের জন্য সাধারণ (১৫ দিন) ফি ধার্য করা হয়েছে ৫০০০ টাকা,
জরুরি ফি (৭ দিন) ধার্য করা হয়েছে ৭০০০ টাকা
অতিব জরুরি ফি (২ দিন) ধার্য করা হয়েছে ৯০০০ টাকা।
৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট ৫ বছরের সাধারণ ফি ধার্য করা হয়েছে ৫৫০০ টাকা,
জরুরি ফি ধার্য করা হয়েছে ৭৫০০ টাকা
অতিব জরুরি ফি (২ দিন) ধার্য করা হয়েছে ১০৫০০ টাকা।
৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছরের জন্য সাধারণ ফি সাত হাজার টাকা
জরুরি ফি (৭ দিন) ৯০০০ টাকা
অতিব জরুরি ফি (২দিন) ১২০০০ টাকা।
এই ফি এর সাথে যথারিতি ১৫% ভ্যাট যুক্ত হবে।
ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগবে?
ই পাসপোর্ট করতে আবেদনকারীর নিম্ন লিখিত কাগজ পত্র লাগবে:
১. ই পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম
২. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
৩. জন্ম নিবন্ধন পত্র
ই পাসপোর্টের আবেদন ফর্ম সরকারি ওয়েবসাইটে দেয়া যাবে, যা পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করে নেয়া যাবে। ফর্মটি অবশই জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। এতে কোন ছবি বা সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না। আবেদন পত্র নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে জমা দেবার সময় ১০ আঙ্গুলের ছাপ, আইরিশের ছবি ও আবেদনকারীর ছবি তোলা হবে। এর পর যথারিতি পুলিশ ভেরিফিকেশনেরও প্রয়োজন হবে। আবেদনকারীর বয়স ১৮ এর নিচে হলে পিতা এবং মাতার ন্যাশনাল আইডি নম্বর অবশ্যই দিতে হবে।
ই পাসপোর্টের জন্য বাংলাদেশ সরকার বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন যেখানে সব তথ্য মিলবেঃ https://epassport.gov.bd/landing
এম আর পি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) এর কি হবে?
এখন যারা এম আর পি ব্যবহার করছেন তাদের কোন সমস্যা হবে না। তবে নতুন করে আর কাউকে এম আর পি ইস্যু করা হবে না। এর অর্থ হল এখন থেকে যারা পাসপোর্ট করবেন তারা সরাসরি ই – পাসপোর্টই করবেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব এম আর পি পাসপোর্ট তুলে নেয়া হবে। যাদের এম আর পি এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তারা পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলে সব তথ্য যাচাই করে ই -পাসপোর্ট দিয়ে দেয়া হবে।
তো বন্ধুরা আশা করি সকলেই বুঝতে পেরেছেন। তার পরেও যদি কোন ধরনের জানার বা জিজ্ঞাসার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাতে ভুলবেন না।
এর পরবর্তী লিখাটি আসবে সেলস মার্কেটিং চাকরিতে কিভাবে নিজের পদোন্নতি করবেন? তাই নিয়ে। আপনি যদি লিখাটি পড়তে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। এবং নিজের বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সাথে শেয়ার করতে ফেসবুক টুইটার এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে সাথেই থাকুন।
তো বন্ধুরা সকলেই ভালো থাকবেন এবং মনে রাখবেন তথ্য মিয়াকে।
তথ্য মিয়া- তথ্য এখন পকেটে পকেটে।

0 Comments