![]() |
| ব্যস্ত নদীপথ |
লিখেছেন: মো: সদর আলী মোল্লা
হাবি: অবঃ বিজিবি
হাবি: অবঃ বিজিবি
মোবাইল: ০১৭২০-৩৪২৩০৮
অপরাধ না করেও আমি সাজলাম অপরাধী। নিজের ঘরে নিজেই এখন জেলখানার কয়েদি। মানুষকে চিড়িয়াখানার খাঁচায় পোষা বাঘ সিংহের মতো নিষ্কর্মা করে দিচ্ছে। মানুষের কর্মক্ষমতা কিছুটা হলেও লোপ পাচ্ছে। ব্যতিক্রম শুধু আমার বেলায়। আমি সে সময়টা ঘোরাঘুরি করে নষ্ট করতাম, তা এখন লেখালেখি করে পার করি। ইন্টারনেট আমার লেখার স্পিড বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রথম একটা প্রতিবেদন লিখে গিয়েছিলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনের কার্যালয় খিলক্ষেতে। আমার লেখাটা গ্রহণ করল, কিন্তু ছাপালো না। নতুন লেখক, নিয়ম-কানুন ভালো জানিনা। এক সপ্তাহ পর আবার গেলাম। গাবতলী থেকে খিলক্ষেত ২০০ টাকা গাড়ি ভাড়া লাগে। কোন পাত্তা পেলাম না। সম্পাদক ছিলেন মরহুম আবু বকর চৌধুরী।
আমার নামের পাশে মোবাইল নাম্বার দেয়া ছিল। ইচ্ছা করলে বলতে পারতেন বানান ভুলের জন্য তোমার লেখা ছাপানো হলো না বা অন্য কিছু।
![]() |
| লিখালিখি |
আমার মনোবল টা ছোট হয়ে গেল। অনেকদিন আর লেখি না। হঠাৎ ১দিন আমার ভাতিজা রনি বলল, "কাকা আপনার লেখা নেটে দেই।" আমি বললাম, "ঠিক আছে দাও" বলে ফটোকপি টা তার হাতে দিলাম। পরেরদিন রনি কম্পিউটারে আমার লেখাটা যখন দেখালো, তখন আমার খুব ভালো লাগলো। লেখার আগ্রহ আগের চেয়ে ৪ গুণ বৃদ্ধি পেল। গত একমাসে আমি অনেক কিছু লিখেছি, যা নেটে আছে।
গাফ্ফার চৌধুরি লন্ডন বসে বাংলাদেশের পরিস্থিতি লেখেন। আমি হাজির থেকে কিছু লিখতে পারবো না এটা মানতে আমার খুব কষ্ট হয়।
স্যার একদিন আমার মতই নতুন ছিলেন। হয়তো এখন মনে নেই। লিখতে লিখতে বিখ্যাত হয়েছেন। এখন নামটা দেখলেই পত্রিকা অফিস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছাপিয়ে দেন।
![]() |
| প্রানের শহর |
মনের কষ্টটা একটু প্রকাশ করলাম। এখন যাবো মূল ঘটনার দিকে। মামাতো ভাই দেলোয়ার- ফুফাতো ভাই আমি। প্রায় দিনই বিকালে হাটতে বের হই। বাসা উভয়েরই লালকুঠি। কোনদিন উত্তর দিকে হাঁটতে হাঁটতে চিড়িয়াখানা ডানে রেখে নবাবেরবাগ পার হয়ে যাই। তাই 6 কিলোমিটার যাওয়ার পর উল্টা ঘুরে বাসায় চলে আসি। গাড়ির জন্য বড়বাজার থেকে উত্তর দিকে হাঁটা আরামদায়ক নয় বলে আমরা ওইদিকে কম যাই। পক্ষান্তরে মিরপুর বড়বাজার থেকে বাবুবাজার পর্যন্ত পায়ে হাঁটার রাস্তা খুব আরামদায়ক যদিও বালু ব্যবসায়ীরা কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তারপরও শান্তি। তাই আমরা ওইদিকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত যাই এবং ঘুরে আসি।
![]() |
| ব্যস্ত রাজপথ |
নবাবেরবাগ থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত কমবেশি ১২ কিমিঃ নদীর কিনারা আমাদের নখদর্পণে। আমরা হাঁটি আর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। সবচেয়ে বেশি আলোচনা করি ওয়াটার বাস নিয়ে, কারণ নদীর ঘাটে গেলে ওয়াটার বাস প্রোগ্রামের অসহায়ত্ব নজরে আসে। মনে হয় আমাকে ইশারা করে বলছে, you can help me for running. ওয়াটার বাস প্রোগ্রাম অত্যন্ত যুগোপযোগী। ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা যানজট। ওয়াটার বাস প্রোগ্রাম সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন হলে যানজট নিরসনে অবদান রাখবে এবং ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।
এখন দেখি এর সমস্যা এবং সমাধান কি হতে পারে? প্রোগ্রাম সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির সহায়তায় নয় আমরা নদীর কিনারা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যা আন্দাজ করলাম তাই লিখলাম। আমার এই ধারণা সঠিক নাও হতে পারে আবার আংশিক হতে পারে। আমি এদেশের একজন নাগরিক। কোটি কোটি টাকার এই প্রজেক্টে ৫০ পয়সা হলো আমার আছে। দেশের যে কোনো ক্ষতিই বা অমঙ্গল আমার হৃদয়ে আঘাত হানে তাই আজকের বিষয়বস্তু ওয়াটার বাস নিয়ে আমার লেখালিখি।
![]() |
| যাত্রীর প্রতীক্ষায় |
আমিও আমার ভাই মাঝে মাঝে ওই পরিত্যক্ত টার্মিনাল গিয়ে কিছু সময় বসে থাকি। যেখানে ওয়াটার বাসে যাত্রী ওঠানামা করে। দেখি সিঁড়িতে ব্যবহৃত লোহার পাত গুলি মানুষ চলাচল নাই বলে জং পড়ে নষ্ট হচ্ছে। মানুষ চলাচল থাকলে পাড়ায় পাড়ায় চকচক থাকতো। কুকুর ঘুমায় ফ্লোরে। প্রাণহীন অবস্থায় পড়ে আছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
অব্যবস্থাপনায়ই দায়ী, কোন জবাবদিহিতা নেই। দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে চার্জশিট দিলেই সচল হয়ে যাবে ওয়াটার বাস।
৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছেন, "সরকারি কর্মচারীরা আমি যা বলি তা মানতে হবে।" আমি খুব খেয়াল করে এই কথাটা শুনি।
যারা বলে ক্রসফায়ার বিচারবহির্ভূত হত্যা-অমানবিক, দুর্নীতি কি অমানবিক নয়?
র্যাব এর বন্দুকের নলটা ত্রাণ বিতরণের দিকে একটু এগিয়ে ধরলে আমার মনে হয় কাফনের কাপড় তো দূরের কথা ১ কেজি চাউল অনিয়ম করার সাহস হবে না কারো।
নীতির প্রশ্নে আপোষ নেই। সৌদি আরবে চুরি করলে হাত কেটে দেয়। তার জন্য কি লক্ষ্য লক্ষ্য হাত কাটা লোক রাস্তা- ঘাটে? খুজলে বড়জোর ১০০ জন লোক পাওয়া যেতে পারে।
ডিম কিনতে গেলে ৫ পার্সেন্ট ডেমারেজ দেয়। ২০ কোটি মানুষের জন্যও একটা ডেমারেজ আছে।
ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, কোটকাচারি আসামির পক্ষে। গুটি কয়েকজন দুর্নীতিবাজের জন্য জজ-ব্যারিস্টার হয়রানির দরকার কি। আইনের আওতায় নিলে ফাক দিয়ে বের হয়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে যায়। তারচেয়ে ডেমারেজ এর আওতায় নিলেই ভালো।
আমাদের মিডিয়া অত্যন্ত সজাগ, হলমার্কের তানভীর, বন খেকো ওসমান, নকল টাকার ফ্যাক্টরিসহ প্রচার করে। কিন্তু ফাঁক দিয়ে বের হয়ে এসে লোকসান পুরো করার জন্য ফ্যাক্টরির গতি বাড়িয়ে দেয়।
প্রত্যেক কাজের ১টা বিকল্প কাজ থাকে। বাসের বিকল্প টেম্পু, সিএনজি, প্রাইভেটকার। ওয়াটার বাসের বিকল্প কি আছে? নদীর ঘাটে বসে বসে দেখতে পাই ছোট ছোট ইঞ্জিন চালিত বোর্ড। বড়বাজার থেকে ২০-২২ জন যাত্রী নিয়ে বড়দেশী হেমায়েতপুর সাভার যাতায়াত করে। শীতল পাটি বিছানো যাত্রী খুব আরামে বসে এবং শান্তি পায়।
![]() |
| ওয়াটার বাস |
পাবলিক চালিত এই বোর্ডগুলোকে বাবুবাজার পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এটা হবে ওয়াটার বাসের বিকল্প। খালের কিনারের স্থানীয় নেতারা আন্তরিক হলে ওয়াটার বাস ফিরে পাবে তার হারানো যৌবন। সুস্থ সুন্দর সফল হবে তিন কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষিত ঢাকার চাকা। চলবে...






0 Comments