আজকের যুগে সেলস একটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জায়গা। আর যতই দিন সামনে এগুচ্ছে ততই সেলস জবে চাকুরী করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে চাকুরীর সংখ্যা চাকুরী প্রত্যাশী ভির অনেক বেশি। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে লাখো লাখো চাকুরী প্রত্যাশীর ভিড়ে যোগ্য এবং স্কিলফুল লোকের খুবই অভাব। আমি প্রায়ই ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে দেখেছি লোকেদের মাঝে চাকরি নেওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা থাকলেও এবং পর্যাপ্ত এক্সপেরিয়েন্স থাকলেও চাকরি এবং তার কাজ এবং দায়িত্ব সম্পর্কে তার জ্ঞান খুবই কম। ঠিক একারণেই প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জনেরই চাকরি পাওয়া খুবই কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। যদিও কোম্পানিগুলো প্রতিদিনই চাকুরীর পত্রিকায় যোগ্য এবং স্কিলফুল লোক পাওয়ার চেষ্টায় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। তার মানে যেটা আমরা বুঝতে পারছি যোগ্য এবং স্কিলফুল লোকের খুবই অভাব ও এদের চাহিদা সবসময়ই বিদ্যমান। আর এজন্যেই আজ আমাদের টপিক সেলস জবের এইসব খুঁটিনাটি টিপস নিয়ে। তো চলুন শুরু করা যাক।
১. টার্গেট পূরণ: (রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট)
যেহেতু টাকাই হচ্ছে আল্টিমেট গন্তব্য সেহেতু যে কোন পদের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হচ্ছে টার্গেট পূরণ করা। কারণ আপনার টার্গেট এর সাথে জড়িয়ে আছে কোম্পানির প্রফিট। তাই প্রথমেই মনোযোগ দিন টার্গেট পূরণের আপনার দৈনিক টার্গেট, মাসিক টার্গেট এবং বাৎসরিক টার্গেট। প্রত্যেকটি টার্গেটকে প্রত্যেকটি দিনে ভাগ করুন, এবং গুরুত্ব দিয়ে টার্গেট পূরণ করুন।
২. ডকুমেন্টেশন: (রিপোর্টিং)
এবার টার্গেট তো হল কিন্তু ডকুমেন্টেশন না করলে আপনি কখনোই কোম্পানির কোন বড় পদে উন্নীত হতে পারবেন না। রিপোর্টিং বা ডকুমেন্টেশন হচ্ছে একটি কোম্পানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেলস এর পাশাপাশি আপনাকে প্রতিনিয়ত রিপোর্টিং ডকুমেন্টেশন করাটাও খুবই জরুরি। কারণ এর থেকে আপনি পরবর্তীতে রিপোর্টিং উপলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আপনার সেলস কে আরো উন্নত করতে পারবেন।
৩. সকল জায়গায় প্রোডাক্ট নিশ্চিত করা: (এভেইলেবলিটি)
সেলস বৃদ্ধি করার জন্য যে ২টি নিয়ম আপনার ফলো করা উচিত সেই দুইটি নিয়মের একটি নিয়ম হচ্ছে প্রত্যেকটি দোকানে প্রোডাক্ট নিশ্চিত করা। কারণ দিন শেষে এই পন্থাটি আপনাকে সেলস বৃদ্ধির সবচাইতে বড় সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। কারণ সেলস বৃদ্ধির অপর নামই প্রোডাক্ট দোকানে নিশ্চিত করা। প্রডাক্টস সেলস করার জন্য যতগুলো দোকান আপনি বৃদ্ধি করবেন ততই আপনার সেলস দিনকে দিন বাড়তে থাকবে এটা খুবই সহজ একটি পন্থা। এর জন্য আপনার তিনটি জিনিস মনে রাখা উচিৎ
- কাভারেজ বৃদ্ধি করা মেমোর মাধ্যমে।
- রেঞ্জ বৃদ্ধি করা এস.কে.ইউ বা প্রোডাক্ট বৃদ্ধির মাধ্যমে
- ডেপথ বৃদ্ধি করা ওয়েট এর মাধ্যমে
৪. প্রোডাক্ট দৃষ্টিগোচর করা: (ভিজিবিলটি)
কথায় আছে আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী। এখন দোকানে দোকানে প্রোডাক্ট তো নিশ্চিত করলেন কিন্তু এখন যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে প্রোডাক্ট গুলো যেন চোখের সামনে দেখা যায় তার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। নইলে আপনার যে ক্রেতা সে কখনোই প্রোডাক্ট দেখবো হবে না এবং সেটা কেনার ইচ্ছা পোষণ করবে না। তাই যথাসম্ভব পন্য
পণ্য টিকে তার চোখের সামনে প্রদর্শন করে রাখুন। আপনার কোম্পানির যদি কোন লিফলেট, বান্টিং, স্টিকার বা যা আছে তাই দিয়ে দোকান সাজান ও ক্রেতার সামনে সুন্দরভাবে প্রদর্শন করুন।
৫. ফিডব্যাক: (মার্কেট ফিডব্যাক)
সর্বোপরি বলা যায় যে, রেভিনিউ জেনারেট করুন ডকুমেন্টেশন করুন এবিলিটি নিশ্চিত করুন ভিজিবিলিটি নিশ্চিত করুন অথবা আর যাই করুন না কেন, আপনার অবশ্যই মার্কেট ফিডব্যাক প্রসেস করে, মার্কেট এনালাইসিস প্রসেস করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা উচিৎ যাতে সেলস আপনার হাতে ধরা দেয় খুবই সহজে।
তো আর দেরি কেন, চলুন না আজ থেকেই নিয়ে নিই কর্মপরিকল্পনা শেষ বৃদ্ধির জন্য। নিজেকে প্রমাণ করি বাংলাদেশের সামনে, বিশ্বের সামনে।
আশা করি এই পোস্টটি আপনাদের সাহায্য করবে আপনাদের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে বিশেষ করে সেলস বৃদ্ধি করার জন্য এবং বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে সেস্কে দ্বিগুণ-তিনগুণ বা চৌগুন করার জন্য। পোস্টটি নিজের কাছে রেখে দেয়ার জন্য ফেসবুকে শেয়ার করে দিন।

0 Comments