করোনাভাইরাস: কিভাবে বুঝবেন আপনি আক্রান্ত কিনা

দুনিয়াজুড়ে আজ সবার হাপিত্যেশ করে বেড়ানো যেই ভাইরাসের নাম আমরা শুনছি তার নাম করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসটি মূলত চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানের একটি পাইকারি মাছের বাজার থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এবং এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ লাখেরও অধিক এবং ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় ১৭৮ টির ও বেশী দেশে।

এই ভাইরাস নিয়ে দেখা দিয়েছে মানুষের মাঝে গুজব ও শঙ্কা। অজানা এই ভাইরাসটিকে নিয়ে এখনো তেমনটা গবেষণা আগায়নি। তারপরও যতটুকু জানা গিয়েছে এই ভাইরাসটি মূলত একটি গ্রুপ অফ ভাইরাস। এই ভাইরাসটি খুবই ভারী হওয়ায় বাতাসে ভেসে থাকতে পারেনা। মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির ড্রপলেট থেকে বা তার স্পর্শে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাসটি থেকে বাঁচার জন্য এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের ভ্যাকসিন বা টিকা দুনিয়াজুড়ে কোথাও বের হয়নি। বাঁচার জন্য মূলত একটিই ফর্মুলা সেটি হচ্ছে এই ব্যাপারে সচেতন হওয়া এবং অন্যকে সচেতন করা নিজে এবং নিজের পরিবার যদি এই ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে পারেন এবং প্রত্যেকে যদি যার যার পরিবারে এই সচেতনতা তৈরি করতে পারেন তাহলে বাঁচা যাবে এই মরণঘাতী ভাইরাস থেকে। নেগেটিভ পুরোপুরিভাবে পড়ে যান তাহলে মিলে যাবে এই রোগের লক্ষণ এবং প্রতিকার এর সব ধরনের নিয়ম। বাঁচার জন্য ৫টি মিনিট তো আপনি বরাদ্দ করতেই পারেন, তাই না? তাহলে চলুন শুরু করি।


প্রাথমিকভাবে মনে হয়ে থাকে যে আপনি জ্বর কাশি বা ঠান্ডায়  বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। এর সাথে প্রচন্ড গলা ব্যথা বুক ব্যথা এবং ডায়রিয়ার ও দেখা যেতে পারে।

লক্ষণ গুলো ভালোভাবে এনালাইসিস করলে বুঝতে পারবেন যে আপনি এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন কিনা। নিচের প্রশ্নগুলো ভালভাবে পড়ুন এবং মনে মনে উত্তর দিয়ে যান একবারে শেষে আমরা জানিয়ে দিব আপনার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা?

প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক আনুমানিক করোনা পরীক্ষা: 

১. আপনার কি জ্বর আছে?
(জ্বর বলতে এখানে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি বোঝানো হচ্ছে)

২. আপনার কি কাশি আছে?
(পূর্বে ছিলো না কিন্তু গত কিছুদিন যাবত কাশিতে ভুগছেন অথবা কাশি আগে থেকে হুই ছিলো কিন্তু এখন বেড়ে গিয়েছে​ )

৩. আপনার কি শ্বাসকষ্ট আছে?
(অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুতগতিতে শ্বাস নিতে হচ্ছে বা শ্বাস নিতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন)

৪. শারীরিকভাবে দুর্বল বোধ করছেন?
(শারীরিক দুর্বলতা বা অবসাদগ্রস্থতা এবং ক্লান্তিভাব)

৫. আপনার কি সর্দি, হাঁচি বা নাক-বন্ধ ভাব আছে?​

৬. গলাব্যথা / মাথাব্যথা / শরীর ব্যাথা অনুভব করছেন?
(স্বাভাবিক-এর চেয়ে বেশী)

৭. নিচের কোনগুলো বিগত ১৪ দিনে আপনার ক্ষেত্রে সত্য?

ক।‌ বিদেশে গিয়েছিলেন
খ। বিদেশ থেকে আগত কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন
গ। করোনা (COVID-19) আক্রান্ত কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন
ঘ। এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন যার জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল

৮.আপনি কি নিচের কোন রোগ বা শারীরিক পরিস্থিতিতে (এক বা একাধিক) ভুগছেন?
ক। ডায়াবেটিস
খ। হার্টের রোগ
গ। লিভারের রোগ
ঘ। সিওপিডি / অ্যাজমা / দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করছেন
ঙ। ক্যান্সার এর জন্য কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন
চ। বেশ কিছুদিন ধরে স্টেরয়েড (যেমনঃ প্রেডনিসোলন) ট্যাবলেট খাচ্ছেন

৯. আপনার বয়স কত?
(সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের কার্যক্ষমতা সবচাইতে বেশি দেখা যায়।)

১০. আপনি কি.........?
(পুরুষ/মহিলা)
বিশেষজ্ঞরা খেয়াল করেছেন যে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গিয়েছেন তাদের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশই পুরুষ।

আনুমানিক ফলাফল:
আপনার করোনা ভাইরাসে (COVID-19) আক্রান্ত হবার সম্ভবনা ক্ষীণ যদি উপরের বেশিরভাগ উত্তরগুলোই আপনার না হয়। আর যদি উপরের বেশিরভাগ উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলে প্রাথমিকভাবে ধরে নিতে পারেন আপনি করোনাভাইরাস পজেটিভ।

এজন্য নিজেকে রক্ষার করার জন্য আপনাকে​ কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।
যেমন-
- হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় টিস্যু দিয়ে বা বাহুর ভাঁজে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে।
- ব্যবহৃত টিস্যু সাথে সাথে ঢাকনা যুক্ত পাত্রে ফেলে হাত সাবান-পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।​
- একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত বাহিরে ঘোরাফেরা, জনসমাগম বা অধিক লোক নিয়ে আয়োজিত সকল কার্যক্রম পরিহার করতে হবে।​
- ঘন ঘন সাবান-পানি, লিক্যুইড হ্যান্ডওয়াশ অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পর্যাপ্ত সময় ধরে (কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড) ভালো করে হাত পরিষ্কার করতে হবে। ​

অবস্থার অবনতি হলে অবশ্যই হাসপাতালে না যেয়ে চিকিৎসা প্রদানের সরকারি হটলাইন ১৬২৬৩ বা ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে চিকিৎসকের পরামর্শ বা তাদের দেয়া ঔষধ গ্রহণ করতে হবে।​

তবে আপনি উপরোক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কোন ভাবে ভেবে নিতে পারেন না যে আপনার করোনাভাইরাস এট্যাক হয়েছে এটার জন্য অবশ্যই আপনাকে পরীক্ষা করাতে হবে।

করোনা বিষয়ে আরো প্রশ্নের উত্তর জানতে নিচের পোস্টগুলো খেয়াল করুন:

২. করোনাভাইরাস: কোয়ারেন্টাইন বা হোম কোয়ারেন্টাইন কাকে বলে?
৩. করোনাভাইরাস: বাঁচতে হলে জানতে হবে
৪. করোনাভাইরাস: আইসলেশন কি? কখন আইসলেশনে যাবেন?
৫. করোনাভাইরাস: করোনা বা কভিড-১৯ কি?
৬. করোনাভাইরাস: কিভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস?
৭. করোনাভাইরাস: হোম কোয়ারেন্টাইন এ কি কি করবেন?
৮. করোনাভাইরাস: কোন বয়সিরা সবচাইতে ঝুঁকিতে?
৯. করোনাভাইরাস: আক্রান্ত হলে কি মারা যাবেন?
১০. করোনাভাইরাস: কম বয়সী আক্রান্তদের ঝুঁকি কি কম?
১১. করোনাভাইরাস: করোনা ভাইরাস নিয়ে যত মিথ/গুজব

আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে নিচের লিংক সমূহ ব্যবহার করুন:
ওয়েবসাইটে: www.totthomia.com
ফেইসবুকে : www.facebook.com/totthomia
টুইটারে: www.twitter.com/totthomia
টেলিগ্রামে: t.me/totthomia
ইউটিউবে: www.youtube.com/totthomia
জিমেইল: totthomia@gmail.com

তথ্য মিয়া
তথ্য এখন পকেটে পকেটে

Post a Comment

0 Comments